শিক্ষাবোর্ডের মন্নানকে নিয়ে অপ-প্রচারের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি!
অনলাইন ডেস্ক
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের ধোপাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অফিস সহকারী আব্দুল মন্নান হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সম্পদ নিয়ে প্রচারিত তথ্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন তিনি।
আব্দুল মন্নান হাওলাদার জানান, তিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে চাকরি করে আসছেন।
দীর্ঘ চাকরিজীবনে তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কোনো অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করেননি বলে দাবি করেন।
তার দাবি, তাকে নিয়ে প্রচারিত তথ্যে বাড়ির জমির পরিমাণ ৮ থেকে ১০ শতাংশ উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে বাড়িটি ৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত। ওই জমি তার শাশুড়ি প্রতি শতাংশ ৫৫ হাজার টাকা দরে গ্রামের মধ্যে কিনে দিয়ে তার স্ত্রীর নামে দলিল করে দেন। ফলে এ জমি নিয়ে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
মন্নান হাওলাদার আরও জানান, বাড়িটি দুইতলা করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে একতলার ছাদ দেওয়া হয়েছে। ছাদ নির্মাণের জন্য তিনি বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। ওই ঋণের কিস্তি হিসেবে প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ১৬ হাজার ১৮৭ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাড়ির ছাদ দেওয়ার পর দুটি গরু জবাই করার বিষয়েও কিছু প্রচার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
এছাড়া নগরীর ফিশারি রোডের শিরিন মঞ্জিলে তার ভাড়া বাসা নিয়েও ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুল মন্নান। তিনি জানান, ওই বাসার মাসিক ভাড়া ৫ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ তাকে নিয়ে প্রচারিত তথ্যে ১৮ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সত্য নয়।
নিজের সম্পদের বিষয়ে আব্দুল মন্নান বলেন, তার আয়কর নথিতে আয় ও সম্পদের তথ্য নিয়ম অনুযায়ী উল্লেখ রয়েছে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া অর্থ এবং দীর্ঘদিনের জমানো টাকা দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে ৪৩ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার বর্তমান ক্রয়মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। চাকরিতে যোগদানের আগেও পৈতৃকভাবে পাওয়া কিছু অর্থ তার কাছে ছিল এবং সেখান থেকেও তিনি সঞ্চয় করেছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, তাকে নিয়ে ৫০ লাখ টাকার সম্পদের যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়।
আব্দুল মন্নানের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার প্রতিপক্ষরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। কয়েকটি মামলা করেও সুবিধা করতে না পেরে এখন গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তার সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল মন্নান হাওলাদার বলেন, আমি কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ কিংবা অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন করিনি। আমার সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের সব তথ্য আয়কর নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।